আমাদের সর্বশেষ সংবাদ

সংবাদের বিস্তারিত পাতা

এক নজরে ময়মনসিংহ জেলা

Apr 24, 2019

এক নজরে ময়মনসিংহ জেলা
নামকরণ
ময়মনসিংহের পূর্ব নাম ছিল নাসিরাবাদ। গৌড়ের সুলতান আলাউদ্দিন হোসেন শাহের পুত্র নাসির উদ্দিন আবুল মোজাফফর নসরত শাহের নামানুসারে এ অঞ্চলের নাম হয় নসরতশাহী। নাসিরাবাদ শহরের পত্তন হয় ১৭৯১ সালে। বিড়ম্বনা পরিহারে পৌর কর্তৃপক্ষ রেলষ্টেশন ও পোষ্ট অফিসের নাম ১৯০৪ সালের ১৮ নভেম্বর ময়মনসিংহ রাখার প্রস্তাব দেন যা ১৯০৫ সালের ১০ মার্চ অনুমোদিত হয়। জানা যায়, মোগল আমলে মোমেন শাহ নামক একজন ফৌজদার ছিলেন। তার শাসিত অঞ্চলের নামকরণ হয় মোমেনশাহী পরগনা। এভাবে আলেফ শাহ-এর নামে আলেফশাহী পরগনার সৃষ্টি হয়। পরবর্তীকালে ‘শাহী’-র পরিবর্তে ‘সিং’ যুক্ত হয়। ফলে ‘মমিনসিংহ’ ও আলেপসিং’ নাম ব্যবহৃত হয়। ১৭৭৯ সালে প্রকাশিত রেনেল-এর ম্যাপে মোমনসিংহ শব্দটি ব্যবহৃত হয়। আইন-ই-আকবরীতে মিহমানশাহী এবং ময়মনসিংহ সরকার বাজুহার পরগনা হিসেবে লিখিত আছে। হোসেনশাহী আমলের নসরতশাহী এলাকা নিয়ে মোগল আমলের সরকার বাজুহা গঠিত হয়। কেউ কেউ বলেন, এ অঞ্চলটি সেনাপতি মানসিংহ কর্তৃক বিজিত হয়েছিল বলে এর নাম হয়েছে ময়মনসিংহ। মুসলমান শাসনের আগে অঞ্চলটি বৃহত্তর বঙ্গীর সাধারণ সমাজে ভাটি বঙ্গাল বা ভাটি দেশ নামে পরিচিত ছিল। (সূত্র ঃ বাংলাদেশ শিশু একাডেমি, ময়মনসিংহ জেলা শাখা, সংকলন ২০০২)

প্রশাসন
১৭৮৭ সালের ১ মে ময়মনসিংহ জেলার সৃষ্টি হয়। তখন জেলার নাম ছিল নাসিরাবাদ। ১৮৫৮ সালে সৃষ্টি হয় পৌরসভা। তৎকালীন বঙ্গদেশের মধ্যে এটি প্রথম এবং উপমহাদেশের মধ্যে দ্বিতীয় পৌরসভা। জেলার প্রথম কালেক্টরের ছিলেন মি. রটন। পৌরসভার প্রথম অফিসিয়াল চেয়ারম্যান ছিলেন মি. আর পার্চ। প্রথম নন-অফিসিয়াল চেয়ারম্যান চন্দ্রকান্ত ঘোষ (১৮৮৬)। ১৯০৫ সালে নাসিরাবাদ নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ময়মনসিংহ। এককালে ময়মনসিংহের পরিধি ছিল বিশাল। বর্তমানের টাঙ্গাইল, জামালপুর, কিশোরগঞ্জ, শেরপুর ও নেত্রকোণা ময়মনসিংহ জেলার অন্তর্গত ছিল।
বর্তমানে ১২টি উপজেলা, ৮টি পৌরসভা, ১৪৬টি ইউনিয়ন এবং ২৭১১টি গ্রাম নিয়ে ময়মনসিংহ গঠিত। উপজেলাগুলো হলো ভালুকা, গফরগাঁও, ত্রিশাল, নান্দাইল, ঈশ্বরগঞ্জ, ফুলবাড়িয়া, মুক্তাগাছা, ময়মনসিংহ, গৌরীপুর, ফুলপুর, ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট।


আয়তন, অবস্থান ও লোক সংখ্যা
ময়মনসিংহ জেলার আয়তন ৪,৩৬৩ দশমিক ৪৮ বর্গকিলোমিটার। জেলাটি ঢাকা বিভাগে অবস্থিত। বর্তমানে এ জেলাটি ১৩ অক্টোবর ২০১৫ ৮ম বিভাগ হিসেবে উন্নীত হয়েছে। জেলা উত্তরে গারো পাহাড় ও ভারতের মেঘালয় রাজ্য, দক্ষিণে গাজীপুর জেলা, পূর্বে নেত্রকোণা ও কিশোরগঞ্জ এবং পশ্চিমে শেরপুর, জামালপুর ও টাঙ্গাইল জেলা। ভৌগোলিকভাবে জেলাটি ২৪ ডিগ্রি ১৮ মিনিট পূর্ব-দ্রাঘিমাংশ থেকে ৯০ ডিগ্রি ৫০ মিনিট পূর্ব-দ্রাঘিমাংশে অবস্থিত। জেলাটি উত্তর-দক্ষিণে লম্বা। ২০০১ সালের আদমশুমারি অনুযায়ী জেলার লোকসংখ্যা ৪৪ লক্ষ ৬০ হাজার ১২০ জন। জনসংখ্যা ৫০ দশমিক ৬২ শতাংশ পুরুষ এবং ৪৯ দশমিক ৩৮ শতাংশ মহিলা। মুসলমান ৯৪.৭৩%, হিন্দু ৪.২৫%, খ্রিষ্টান ০.৭৫%, বৌদ্ধ।


নদনদী
পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, কংস, ক্ষিরো, সুতিয়া, খড়িয়া, বানার, বংশী, আয়মন, পাগাইরা ইত্যাদি নদনদী।


জমি
জেলায় মোট আবাদযোগ্য জমির পরিমান ৩,৪৬,১১৭ হেক্টর। এক ফসলি ১৮.৫৮%, দোফসলি ৭০.২০% এবং তিন ফসলি ১১.২২%। বনভূমির পরিমান ৩৮,৭০১.২৬ একর।


শিক্ষা
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শহর ময়মনসিংহ। ময়মনসিংহে রয়েছে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (১৯৬২), বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (১৯৬০), কবি নজরুল বিশ্ববিদ্যালয় (২০০৬), ময়মনসিংহ গার্লস ক্যাডেট কলেজ, বাংলাদেশের একমাত্র মহিলা টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (১৯৫২), পুরুষ টিচার্স ট্রেনিং কলেজ, ময়মনসিংহ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউট (১৯৬৩), জেলায় রয়েছে সরকারি কলেজ ৫টি, বেসরকারি কলেজ ৫৭টি, সরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৯টি, বেসরকারী মাধ্যমিক বিদ্যালয় ৩৬৮টি, নিম্ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ১২৯টি, মাদ্রাসা ১২১২টি, সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ১২৪৯টি এবং বেসরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয় ৭৯৪টি।


সংস্কৃতি
ময়মনসিংহে একটি সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রয়েছে যা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশ্বে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখেছে। কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ডক্টর দীনেশচন্দ্র সেন সংগৃহীত ও সম্পাদিত ‘মৈমনসিংহ গীতিকা’ এ অঞ্চলের সংস্কৃতির ধারক ও বাহক। এটি ইংরেজি ও ফরাসি ভাষায় অনূদিত হয়ে বিশ্বসাহিত্যের মর্যাদা পেয়েছে।
- সংগৃহীত